ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভিষেককে রাহুলের ফোন, রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত “একাত্তরের ইতিকথা” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন পরীক্ষায় ‘নীরব বহিষ্কারের’ নিয়ম বাদ দেয়ার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা নিয়ে সুখবর দিল পাকিস্তান আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমাতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ মাগুরায় সেলুনে চুল কাটার সিরিয়াল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এবারও হরমুজ পাড়ি দিতে পারল না ‘বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়া প্রথম তেলবাহী ট্যাংকার পাকিস্তানের জেলখানায় বসেই ডাকাতির পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ১৩ শিক্ষক নিয়োগে মেধাবী কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না : শিক্ষামন্ত্রী গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–হামাস সরাসরি আলোচনায় ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ! বাকিতে চা বিক্রি না করা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ ৪১৯ যাত্রী নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে প্রথম হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন মাইলস্টোনের শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে প্রতারণা করেছে : জামায়াত আমির নতুন উপজেলা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, নাম কী?

তাজরীন ট্র্যাজেডির এক যুগ : পুনর্বাসনের দাবি আহতদের

  • আপলোড সময় : ২৪-১১-২০২৪ ১১:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-১১-২০২৪ ১১:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
তাজরীন ট্র্যাজেডির এক যুগ : পুনর্বাসনের দাবি আহতদের
তাজরীন ট্র্যাজেডির এক যুগ। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আগুনে পুড়ে ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশন কারখানার ১১৭ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এতে আহত হয় আরো অন্তত ২০০ শ্রমিক।দুঃসহ সময়ের স্মৃতি হৃদয় থেকে মুছতে পারেনি অগ্নিকাণ্ডে হতাহত শ্রমিক ও তাদের পরিবার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পুনর্বাসনসহ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি একযুগেও।দেশের বর্তমান অন্তরর্বর্তী সরকার হতাহতের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনসহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলেই আশাবাদী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।তাজরীন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২৪ নভেম্বর তাদের মনে করিয়ে দেয় স্বজন হারানোর বেদনা। এই দিনে কেউ হারিয়েছে মাকে, বোনকে, বাবাকে কেউ বা আবার হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। এদিন ডুকরে কেঁদে ওঠে স্বজন হারানো মানুষগুলো। উপার্জনক্ষম মানুষগুলোই এখন তাদের পরিবারের বোঝা, কেউ বা কোনোমতে দোকান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জীবনযুদ্ধ। কেউ বা চিকিৎসা করাতেই নামমাত্র ক্ষতিপূরণসহ শেষ করেছেন তাদের সর্বস্ব। আবার অনেকেই বঞ্চিত হয়েছে ক্ষতিপূরণ থেকেও। তারা আজ ১২ বছর ধরে অপেক্ষায় আছে ক্ষতিপূরণের আশায়, প্রহর গুনছেন পুনর্বাসনের।

কথা হয় তাজরীনে আহত নারী শ্রমিক শিল্পী বেগমের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, ঘটনার দিন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি করে নামছিলেন। হঠাৎ নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার দু’হাত-পা ও মাজায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে দীর্ঘ দিন সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পূনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফেরেন। এখনো তার জীবনযুদ্ধ থেমে নেই। জীবিকার তাগিদে চায়ের দোকান চালিয়ে চলছে তার সংসার।তিনি জানান, সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাময়িক কিছু সহায়তা পেলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাননি। বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে এখনো বিপদে।আহত আরেক নারী শ্রমিক সবিতা রাণী। তিনি জানান, তিনি তৃতীয়তলায় কাজ করতেন স্যুইং অপারেটর হিসেবে। চিকিৎসা করাতে করাতে এখন তিনি নিঃস্ব। কোনোরকম সংসার চলছে তার। কিছু সহায়তা পেয়েছেন তিনি, যা চিকিৎসা করাতেই শেষ।

তিনি বলেন, ‘বার বার আশ্বাস দিলেও আমাদের ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসন করা হয়নি।’ক্ষতিপূরণ পেলে তিনি গ্রামে গিয়ে কিছু একটা করে সংসার চালাবেন বলে জানান।মোকাদ্দেছ নামের আরেক আহত শ্রমিক জানান, তিনি ওই কারখানায় স্যুইং অপারেটর ছিলেন। তিনিসহ সকল আহত ও নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের দাবি তার।এদিকে বিভিন্ন শ্রমিক নেতারা বলছেন, তাজরীনে আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার ১২ বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মালিকপক্ষের অবহেলায় পোশাকশিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতসহ হাসপাতাল বানিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের দাবি জানান।

বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু নয়া দিগন্তকে জানান, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীনের অগ্নিকাণ্ড কর্তৃপক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক মারা যায়। আহত হয় আরো অনেকে। বিগত সরকারের আমলে আহত শ্রমিকদের সু-চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু পূরণ করতে পারেনি। বর্তমান সরকার একটা নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকারের কাছে আহত ও নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি তার।তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের ১২ বছরে নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কারখানার ফটকের সামনে এদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত “একাত্তরের ইতিকথা” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত “একাত্তরের ইতিকথা” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন